ঢাকারবিবার , ২২ অক্টোবর ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শীর্ষপদ ভাগিয়ে নিতে লবিং-তদবিরে ব্যস্ত ডজনখানিক নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অক্টোবর ২২, ২০২৩ ১:৫৪ অপরাহ্ণ । ১৬০ জন

বিতর্কিতরা এগিয়ে

আছেন মামলার আসামী, বহিষ্কৃত, বয়স উত্তীর্ণ নেতা

কুবি ছাত্রলীগের কমিটি

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখার কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে চলছে শেষ সময়ের লবিং-তদবির। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের শীর্ষপদ দু’টি পদ ভাগিয়ে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বয়স উত্তীর্ণ, হত্যা মামলার আসামী, অনিয়মিত ছাত্র, বহিষ্কৃতসহ নানা বির্তকে জড়িত ডজনখানিক ছাত্রলীগ নেতা। এদিকে যাচাই বাছাই করেই কমিটি গঠন করার কথা জানান কেন্দ্রীয় নেতারা।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ কুবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির পর গত ৯ অক্টোবর কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়, এতে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর জীবনবৃত্তান্ত নেওয়া হয়। যেখান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি দেওয়ার কথা জাননো হয়। এরমধ্যে শীর্ষপদ দু’টিতে জায়গা করে নিতে ডজনের বেশী নেতা ক্যাম্পাস ছেড়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের দেখা পেতে তাদের বাসা ও হলের গেইট, মধুর ক্যান্টিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, টিএসসিসহ বিভিন্ন স্থানে অপেক্ষা করছেন তারা। এদিকে বহুদিন পর কুবি কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগ কর্মী উচ্ছ্বাস থাকলে শঙ্কা জাগছে বির্তকিতদের এগিয়ে থাকা নিয়ে। এছাড়া কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারাও ক্যাম্পাসকে দখলে রাখতে সমর্থন দিচ্ছে ছাত্রনেতাদের। এতে প্রশ্ন উঠেছে শীর্ষপদে আসছেন স্থানীয়রাই?
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী রেজা-ই-এলাহীর (২০১৭ সালে বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক) বিরুদ্ধে বয়স উত্তীর্ণ হওয়া, ছাত্রত্ব না থাকা, ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলার অভিযোগ থাকলেও তিনি এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে স্নাতক পাস করে, শিক্ষাগত সনদ অনুযায়ী বর্তমান বয়স ৩১। তার বিরুদ্ধে ২০২০ সালে বরুড়ায় এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টা, ভাঙচুর, জালিয়াতির একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৬ সালে পহেলা আগস্ট কাজী নজরুল ইসলাম হলের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি রেজা। এছাড়াও তিনি সাংবাদিক হেনস্তাসহ নানা বির্তকে জড়িয়েছেন। তবে শুরু থেকে বিষয়গুলো অস্বীকার করে আসছেন রেজা-এলাহী। বয়স না থাকাসহ অন্যান্য অভিযোগ কেন্দ্র বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি।
শীর্ষপদপ্রার্থী স্বজন বরণ বিশ্বাস খালেদ সাইফুল্লাহ হত্যার চার্জশিটভুক্ত আসামি। এছাড়া ২০১৮ সালে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি নিয়মিত ছাত্রও নয়। আরেক পদপ্রত্যাশী আবু সাদাৎ মো. সায়েম রাজাকারের নাতি বলে অভিযোগ উঠেছে। সায়েম বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের আব্দুল জাব্বারের নাতি। জাব্বার মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন ও শান্তি বাহিনীর সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে সায়েমের দাবি তার দাদা রাজাকার ছিলেন কিনা তিনি জানেন না। তিনি নিজেও রাজাকার পরিবারের কেউ নেতৃত্বে আসুক সেটা চান না।
এদিকে পদপ্রত্যাশী মেজবাউল হক শান্ত ও ইসরাত জাহান জেরিনের বিরুদ্ধে বিয়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে দাবি ইসরাত জাহানের। তিনি বলেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কেন বা কারা এ ধরনের ভ্রান্ত গুজব ছড়ায় আমার জানা নাই। মনগড়া কথা বলে আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা হচ্ছে। এদিকে আরেক পদপ্রত্যাশী এনায়েত উল্ল্যাহর বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায় একটি মামলার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে এনায়েত উল্ল্যাহ বলেন, ২০১৪ সালে দুই গ্রামের মারামারিকে কেন্দ্র একটি মামলা হয় সেখানে আমার নাম দেওয়া হয়। আমি তখন দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম। এখন সেটিকে নিয়ে কারা রাজনৈতিক মেরুকরণ করছে আমি জানি না, এটি ভিত্তিহীন একটি অভিযোগ। এছাড়া এনায়েত ও আরেক পদপ্রত্যাশী সালমান চৌধুরীকে প্রক্টরিয়াল বডির কর্তব্য পালনে বাধা, শিক্ষককে হেনস্তা এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আরেক শীর্ষ পদপ্রত্যাশী নাজমুল হাসান পলাশের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ইকবাল খান, রকিবুল হাসান রকি, মেহেদী হাসান হৃদয়, ইমরান হোসাইন কেউই নিয়মিত ছাত্র না হলেও শীর্ষপদপ্রত্যাশী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এরমধ্যে রকিবুল ইসলাম, ইমরান হোসাইন সন্ধ্যাকালীন কোর্সে ভর্তি রয়েছেন।
এছাড়া ইকবাল খান কুবি ছাত্রলীগের সাথে কখনো সম্পৃক্ত ছিলেন না। তবে তার পিতা ফজল খান কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। জানা গেছে তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামীলীগের সাথে জড়িত। গেল বছরের ১ অক্টোবর ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মীর সাথে কথা হয় প্রতিবেদকের। তারা বলেন, যারা ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল করবে না এবং শিক্ষার সঠিক পরিবেশ বজায় রাখতে পারবে তারাই নেতৃত্বে আসুক। নেতৃত্বে তারাই আসুক যারা আওয়ামী পরিবারের সন্তান এবং জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার জন্য কাজ করতে পারবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় হোক বাইরের হোক যোগ্য ও দক্ষরাই কমিটিতে আসুক, সেটাই প্রত্যাশা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু ইউনুছ বলেন, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আমাদের সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়াগুলো রয়েছে ইতিমধ্যে আমরা সেগুলো সম্পন্ন করেছি। আমরা কর্মীসভা করেছি এবং জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করেছি। সেগুলো যাচাই বাছাই করে, দ্রুত সময়ের মধ্যে কুবি শিক্ষার্থীরা যে ধরণের নেতৃত্ব চায় সেভাবে কমিটি গঠন করা হবে।
কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি কোহিনূর আকতার রাখি বলেন, আমরা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে কর্মীসভা করেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সাথেও কথা বলেছি। যারা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখবে এবং শেখ হাসিনার জন্য কাজ করবে তারাই নেতৃত্বে আসবে। তিনি আরও বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি হয়ে যাবে, নির্বাচনের আগে কমিটি হওয়ার সম্ভবনা বেশী।
কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।