ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩০ নভেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নির্বাচনের পথে পাঁচ বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
নভেম্বর ৩০, ২০২৩ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ । ১৪০ জন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর মধ্যে দিয়ে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো বাংলাদেশ। তবে এই নির্বাচনের যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। নির্বাচনের এই যাত্রাপথে অনেকগুলো বাধা রয়েছে। এই বাধাগুলো পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই এখন নির্বাচন কমিশন এবং বাংলাদেশের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের এই গন্তব্যে পৌছানোর পথে বাংলাদেশকে এবং নির্বাচন কমিশনকে পাঁচটি বাধা অতিক্রম করতে হবে। এই বাধাগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. বিএনপি এবং শরিকদের বর্জন: নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি এবং তার শরিক আন্দোলনরত দলগুলো শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে করেনি। তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সে প্রশ্ন অমীমাংসিতই রয়ে গেল। তাছাড়া নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত সারা দেশে ভীতি-সন্ত্রাস ইত্যাদির চেষ্টার করতে পারে। ভোটাররা যেন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হয়, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় চেষ্টা। এবং এই চেষ্টায় যদি তারা সফল হয় তাহলে একটি ভোটারবিহীন নির্বাচন দেশে হতে পারে। সেরকম একটি নির্বাচন আন্তর্জাতিকভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে সে প্রশ্নটি সামনে উঠে এসেছে।

২. বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ: বাংলাদেশের এই নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মহল গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনে যদি শেষ পর্যন্ত কারচুপি হয় বা অতি উৎসাহীরা নির্বাচনে কোন ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে তাহলে এই নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের ওপর আরোপ করতে পারে নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা। তাই এই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং নির্বাচনের যাত্রাপথে বিদেশীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করার বাধা নির্বাচন কমিশনকে পেরোতে হবে।

৩. নির্বাচন আইন, আচারণ বিধি মানা: ইতোমধ্যেই নির্বাচনের আইন এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক পড়ে গেছে। এখন সামনের দিনগুলোতে কি হবে, সেটিই একটি বড় প্রশ্ন। যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়, যদি প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিধিবহির্ভূত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে থাকেন তাহলে এই নির্বাচন একটি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হবে। কাজেই যেকোনো মূল্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে সামাল দিতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের লক্ষ্যে। যদি এই প্রভাব বিস্তার এবং কারচুপিকে প্রতিরোধ না করা হয় সেক্ষেত্রে নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতার সংকটে পড়তে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

৪. অর্থনৈতিক সংকট: দেশে ক্রমশ অর্থনৈতিক সংকট দানা বেধে উঠছে। বিশেষ করে রিজার্ভ এবং ডলার সংকট নিয়ে দুঃশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে। অর্থনীতিতে সুখবর নেই। এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে নির্বাচন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জের বিষয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

৫. মার্কিন শ্রমনীতি খড়গ: ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শ্রমবিষয়ক যে মেমোরেন্ডাম জারি করেছে, তার টার্গেট বাংলাদেশ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে খোদ ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে। এ নিয়ে আজ (৩০ নভেম্বর) মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস সাক্ষাৎ করেছেন পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে। সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনের আগে এই বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার খড়গ একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে পারে বাংলাদেশের জন্য।